ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উত্তাপ: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে রুমিন ফারহানার 'ওয়ার্নিং', বিচারিক কমিটিতে অভিযোগ
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের সাহসী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত রুমিন ফারহানা এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আলোচনার কেন্দ্রে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার এই বিষয়ে নির্বাচনী বিচারিক কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন।
শনিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার এক সমর্থক মো. জুয়েলকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে তর্কে লিপ্ত হন। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে তাকে বলতে শোনা যায়, "এক্সকিউজ মি স্যার, দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্ন ইউ। আই উইল নট লিসেন টু দ্যাট।"
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, রুমিন ফারহানা আঙুল উঁচিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, "আঙুল তুলে বলে গেলাম, ভবিষ্যতে আর শুনব না। আমি যদি না বলি, এখান থেকে বের হতে পারবেন না। মাথায় রাখবেন, আমি রুমিন ফারহানা, কোনো দল লাগে না।" ইউএনও মো. আবুবকর সরকারের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি বিচারিক কাজে সরাসরি বাধা এবং নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতি সবসময়ই স্বতন্ত্র ও আপসহীন চরিত্রের পরিচয় দিয়েছে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের এই দীর্ঘ সময়ে অনেক বিবর্তন ঘটেছে:
১৯০০ - ১৯৪৭ (তৈরী হয়েছে প্রতিরোধের ভিত্তি): বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছিল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম উর্বর ভূমি। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে এখানকার কৃষক ও ছাত্র সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
১৯৭১ (মহান মুক্তিযুদ্ধ): একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্র। বিশেষ করে সরাইল ও আশুগঞ্জ এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।
১৯৯১ - ২০২৪ (সংসদীয় রাজনীতি ও কণ্ঠস্বর): ১৯৯১ পরবর্তী সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বরাবরই হেভিওয়েট প্রার্থীদের দখলে ছিল। তবে ২০১৮ পরবর্তী সময়ে রুমিন ফারহানা সংসদে তার জোরালো বক্তব্যের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে আমূল পরিবর্তন আসে, তার ঢেউ লেগেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও।
২০২৬ (নতুন নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ): ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রুমিন ফারহানার 'কোনো দল লাগে না'—এই মন্তব্যটি মূলত ২০২৪ পরবর্তী 'ব্যক্তি ও জনশক্তি'র রাজনীতির প্রতিফলন। তবে প্রশাসনের সাথে এই সংঘাত নির্বাচনী মাঠে তার জন্য ইতিবাচক না নেতিবাচক হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রমাণের এটি একটি বড় পরীক্ষা। রুমিন ফারহানার মতো জনপ্রিয় নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই শক্ত অবস্থান যেমন আইনের শাসন নির্দেশ করে, তেমনি তার সমর্থকদের অভিযোগ—প্রশাসন কেবল একটি পক্ষকেই টার্গেট করছে। ১৯০০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই দ্বন্দ্ব অনেক বড় বড় পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
সূত্র: ১. সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রেরিত অভিযোগপত্র (১৭ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. যুগান্তর অনলাইন ও স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিনিধি। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ (রাজনৈতিক টাইমলাইন ১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |